DE INTERNATIONALCARGO & LOGISTICS

ইমপোর্ট গাইড

চীন থেকে বাংলাদেশে ইমপোর্ট করবেন যেভাবে।

নতুন ও অভিজ্ঞ — দুই ধরনের ইমপোর্টারের জন্য ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড: সাপ্লায়ার, খরচ, সি না এয়ার, কাস্টমস ও ডেলিভারি।

৭টি ধাপপ্রায় ৮ মিনিটহালনাগাদ ২০২৬
আপনার ইমপোর্ট৭ / ৭
১. সাপ্লায়ার খোঁজা
২. দরদাম
৩. ইন্সপেকশন
৪. শিপিং
৫. খরচের হিসাব
৬. কাস্টমস
৭. ডেলিভারি
শেনজেন --:--ঢাকা --:--

চীন থেকে পণ্য ইমপোর্ট বাংলাদেশের হাজারো ব্যবসার মেরুদণ্ড — গার্মেন্টস কারখানা ও ইলেকট্রনিক্সের দোকান থেকে হোলসেলার, হার্ডওয়্যার শপ ও নির্মাণসামগ্রীর সাপ্লায়ার পর্যন্ত। কিন্তু প্রথমবার ইমপোর্ট করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটা কঠিন মনে হতে পারে: বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার কোথায় পাবেন, আসল শিপিং খরচ কত, চট্টগ্রামে কাস্টমস কীভাবে ক্লিয়ার করবেন, আর মাল নিরাপদে কীভাবে হাতে পাবেন?

এই গাইডে চীন থেকে বাংলাদেশে ইমপোর্টের প্রতিটি ধাপ বোঝানো হয়েছে। শেষে আপনি পুরো যাত্রাটা বুঝবেন — সাপ্লায়ার বাছাই থেকে দরজায় কার্গো পাওয়া পর্যন্ত।

কেন চীন থেকে ইমপোর্ট?

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং হাব। বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য সেখানে আছে কম ফ্যাক্টরি দাম, বিপুল পণ্যের সমাহার, আর 1688, Alibaba ও Made-in-China-র মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে প্রায় সবকিছু পাওয়া যায়। একটি মেশিন হোক বা পুরো কনটেইনার — ঠিকভাবে সামলাতে পারলে চীন থেকে সাধারণত দেশে কেনার চেয়ে সস্তায় পাওয়া যায়।

০১সাপ্লায়ার খুঁজুন ও যাচাই করুন

বড় প্ল্যাটফর্মগুলো দিয়ে শুরু করুন। 1688-এ দাম সবচেয়ে কম, তবে এটি চাইনিজ ভাষায় আর মূলত চীনের ভেতরের বাজারের জন্য। Alibaba ও Made-in-China আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য তৈরি। সাপ্লায়ার শর্টলিস্ট করার পর সাবধানে যাচাই করুন:

  • প্রতিষ্ঠানের বিজনেস লাইসেন্স আর কত দিন ধরে ব্যবসা করছে দেখুন।
  • বড় অর্ডারের আগে প্রোডাক্ট স্যাম্পল চান।
  • রিভিউ পড়ুন, আর নিশ্চিত হোন তারা আসল ম্যানুফ্যাকচারার, শুধু রিসেলার নয়।
  • চীনে বিশ্বস্ত এজেন্ট দিয়ে সাপ্লায়ারকে সরাসরি দেখিয়ে বা ইন্সপেক্ট করিয়ে নিন।

এখানেই চীনে অফিস থাকা পার্টনারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। DE INTERNATIONAL-এর শেনজেন টিম সরাসরি গিয়ে সাপ্লায়ার যাচাই করে, ফলে নতুন ইমপোর্টাররা যে প্রতারণা আর কোয়ালিটি সমস্যায় পড়েন তা এড়াতে পারেন।

০২কোটেশন নিন ও দরদাম করুন

সাপ্লায়ারের কাছে ইউনিট প্রাইস, মিনিমাম অর্ডার কোয়ান্টিটি (MOQ), আর দামটি EXW (ex-works) নাকি FOB (free on board) জেনে নিন। দাম ও MOQ নিয়ে দরদাম করুন, আর পেমেন্টের আগে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন (সাইজ, ম্যাটেরিয়াল, রং, প্যাকেজিং) সবসময় লিখিতভাবে কনফার্ম করুন। পরিষ্কার লিখিত চুক্তি পরে বিরোধ এড়ায়।

০৩পাঠানোর আগে কোয়ালিটি চেক করুন

ধরে নেবেন না যে পণ্য নিখুঁত। কার্গো চীন ছাড়ার আগেই ফ্যাক্টরি বা ওয়্যারহাউসে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন করিয়ে পরিমাণ ও মান দেখে নিন। শেনজেনে ত্রুটি ধরা সহজ; ৬,০০০ কিমি দূরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর ধরা পড়লে খরচ অনেক। আমাদের সোর্সিং সার্ভিসের অংশ হিসেবে DE INTERNATIONAL উৎসেই আপনার পণ্য ইন্সপেক্ট করে।

০৪শিপিংয়ের পদ্ধতি বাছুন: সি না এয়ার

চীন থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রধান দুটি উপায়:

সি ফ্রেইট১৮–৩৫ দিন

ভারী বা বড় কার্গোর জন্য সবচেয়ে সস্তা, চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসে। মেশিনারি, ফার্নিচার ও বাল্ক পণ্যের জন্য সেরা। পুরো কনটেইনার (FCL) বা ছোট মালে শেয়ার্ড কনটেইনার (LCL)।

এয়ার ফ্রেইট৫–১০ দিন

দ্রুত, জরুরি, হালকা বা দামি পণ্যের জন্য সেরা, তবে প্রতি কেজিতে খরচ বেশি।

অনেক ইমপোর্টার দরজা থেকে দরজা (DDP) সার্ভিস নেন, যেখানে এক দামে চীনের ফ্যাক্টরি থেকে আপনার ওয়্যারহাউস পর্যন্ত কাস্টমসসহ সব থাকে। আমাদের সার্ভিস পেজে অপশনগুলো তুলনা করুন।

০৫খরচের হিসাব করুন (CBM, ফ্রেইট ও ডিউটি)

আপনার মোট খরচ (ল্যান্ডেড কস্ট) শুধু পণ্যের দাম নয়। এতে থাকে:

  • ফ্রেইট — সি কার্গোতে সাধারণত ভলিউম (CBM, বা ঘনমিটার) আর এয়ার কার্গোতে চার্জেবল ওজন অনুযায়ী।
  • বাংলাদেশে কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ, যা পণ্যের HS কোডের ওপর নির্ভর করে এবং অনেক কম-বেশি হতে পারে।
  • লোকাল চার্জ যেমন বন্দরের হ্যান্ডলিং, ক্লিয়ারিং ও দেশের ভেতরে ডেলিভারি।

আপনার অর্ডার কতটা জায়গা নেবে বুঝতে পারছেন না? সিদ্ধান্তের আগে ভলিউম ও চার্জেবল ওজন হিসাব করতে আমাদের ফ্রি CBM ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

০৬বাংলাদেশে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স

কার্গো পৌঁছালে বাংলাদেশ কাস্টমস থেকে ক্লিয়ার করতে হয়। সাধারণত লাগে কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব লেডিং (সি) বা এয়ারওয়ে বিল (এয়ার), আর LC বা LCA-র মতো ইমপোর্ট ডকুমেন্ট। পণ্য একটি HS কোডে শ্রেণিভুক্ত হয় এবং সে অনুযায়ী ডিউটি ও ভ্যাট দিতে হয়। ভুল HS কোড বা কাগজের ঘাটতিতে ব্যয়বহুল দেরি হতে পারে, তাই বেশিরভাগ ইমপোর্টার ক্লিয়ারিং এজেন্ট ব্যবহার করেন। DE INTERNATIONAL চীন ও বাংলাদেশ — দুই দিকেই আপনার হয়ে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স করে।

০৭আপনার দরজায় ফাইনাল ডেলিভারি

ক্লিয়ারেন্সের পর বন্দর বা এয়ারপোর্ট থেকে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় আপনার ঠিকানায় মাল পৌঁছানো হয়। দরজা থেকে দরজা সার্ভিসে আপনি শুধু কার্গো বুঝে নেন — বন্দরে নিজে যেতে হয় না। ওয়্যারহাউসে পৌঁছানোর আগে পার্সেল ডিক্লেয়ার করুন, অনলাইনে প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করুন, অথবা সাথে সাথে ট্র্যাকিং নম্বর পেতে চীনে পিকআপ রিকোয়েস্ট করুন।

যে ভুলগুলো এড়াবেন

  • যাচাই না করা সাপ্লায়ারকে পুরো টাকা অগ্রিম দেওয়া।
  • প্রি-শিপমেন্ট কোয়ালিটি ইন্সপেকশন বাদ দেওয়া।
  • বাজেটে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট কম ধরা।
  • ভুল HS কোড ব্যবহার, যার ফলে জরিমানা ও দেরি।
  • সময় ও নির্ভরযোগ্যতা না দেখে সবচেয়ে সস্তা ফ্রেইট বেছে নেওয়া।

DE INTERNATIONAL-কে দায়িত্ব দিন

এসব একা সামলাতে হবে না। ২০২১ সাল থেকে ঢাকা ও শেনজেনে অফিস নিয়ে DE INTERNATIONAL পুরো যাত্রা সামলায় — সাপ্লায়ার সোর্সিং, কোয়ালিটি ইন্সপেকশন, সি ও এয়ার ফ্রেইট, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স আর দরজা পর্যন্ত ডেলিভারি — বাংলা, ইংরেজি ও চাইনিজে সাপোর্ট আর অনলাইন ট্র্যাকিংসহ। শুরু করতে ফ্রি কোটেশন নিন অথবা আমাদের টিমের সাথে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নোত্তর

সাধারণ প্রশ্ন

চীন থেকে বাংলাদেশে শিপিংয়ে কত দিন লাগে?
সি ফ্রেইটে দরজা থেকে দরজা সাধারণত প্রায় ১৮ থেকে ৩৫ দিন, আর এয়ার ফ্রেইটে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন। সঠিক সময় নির্ভর করে রুট, বন্দর বা এয়ারপোর্ট, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স আর বাংলাদেশে আপনার ঠিকানার ওপর।
চীন থেকে বাংলাদেশে ইমপোর্টে কত খরচ?
খরচ নির্ভর করে ভলিউম (CBM), ওজন, শিপিং পদ্ধতি, পণ্যের ধরন, আর পণ্যের HS কোড অনুযায়ী কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটের ওপর। দ্রুত হিসাবের জন্য DE INTERNATIONAL-এর CBM ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন, অথবা সব খরচসহ সঠিক দামের জন্য কোটেশন নিন।
চীন থেকে ইমপোর্টে কি ট্রেড লাইসেন্স বা LC লাগে?
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ইমপোর্টে সাধারণত বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (IRC) আর প্রায়ই লেটার অব ক্রেডিট (LC) বা অনুমোদিত অন্য পেমেন্ট পদ্ধতি লাগে। ছোট বা স্যাম্পল শিপমেন্ট তুলনামূলক সহজ। কোন কাগজ লাগবে, DE INTERNATIONAL আপনাকে বুঝিয়ে দেয়।
শুধু ছবি বা লিংক থাকলে কি DE INTERNATIONAL পণ্য সোর্স করতে পারে?
হ্যাঁ। পণ্যের ছবি, 1688 বা Alibaba লিংক, অথবা স্যাম্পল পাঠান — শেনজেন টিম যাচাই করা সাপ্লায়ার খুঁজবে, দরদাম করবে, কোয়ালিটি দেখবে আর বাংলাদেশে শিপিংসহ এক কোটেশন দেবে।
চীন থেকে বাংলাদেশে শিপমেন্ট কীভাবে ট্র্যাক করব?
DE INTERNATIONAL-এর প্রতিটি শিপমেন্টের একটি ট্র্যাকিং আইডি থাকে, যা দিয়ে ট্র্যাক পেজে চীনে পিকআপ থেকে বাংলাদেশে ডেলিভারি পর্যন্ত ১১টি ধাপ দেখা যায়।

আরও গভীরে

সংশ্লিষ্ট গাইড

ওপরের প্রতিটি ধাপের বিস্তারিত — পরের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। আর্টিকেলগুলো ইংরেজিতে।

চীন থেকে ইমপোর্ট শুরু করবেন?

কী ইমপোর্ট করতে চান জানান — সোর্সিং, শিপিং, কাস্টমস আর বাংলাদেশে আপনার দরজা পর্যন্ত ডেলিভারি আমরা সামলাব।

WhatsApp